Blogs

ই-পাসপোর্ট পাওয়া খুব সহজ। দেখুন কিভাবে।

e-passport photo

ই-পাসপোর্ট করতে ঝামেলা অনেক কম। এ ছাড়া দ্রুত সময়ে ১০ বছর পর্যন্ত মেয়াদের পাসপোর্ট করা যাচ্ছে। অনলাইন পেমেন্টও যুক্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ই-পাসপোর্ট হচ্ছে নতুন যুগের নিরাপদ পাসপোর্ট। ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খুলে ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে সহজেই করা যাচ্ছে।
এ ছাড়া আবেদনের পর কবে জমা দিতে যেতে হবে, সেই দিন–তারিখ পাওয়া যাচ্ছে বলে অনেক কাজ সহজ হয়ে যাচ্ছে। 

ই-পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক চিপ রয়েছে। এ চিপের মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্য, যা পাসপোর্টধারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

এতে মাইক্রোপ্রসেসর বা চিপ এবং অ্যান্টেনাসহ স্মার্টকার্ড প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিপে সংরক্ষণ করা হয়। ই-পাসপোর্টে যেসব বায়োমেট্রিক তথ্য নেয়া হয় সেসব হলো—ছবি, আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও আইরিশ। ইলেকট্রনিক বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থা (ই-বর্ডার) দিয়ে পাসপোর্ট চিপের বাইরের বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর তুলনামূলক যাচাই করা হয়। পাবলিক কি ইনফ্রাষ্ট্রাকচােরর (পিকেআই) মাধ্যমে পাসপোর্ট চিপে থাকা তথ্য যাচাই করা হয়। তাই জালিয়াতি করা কঠিন।

আবেদন করবেন যেভাবে

ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে www.dip.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে গিয়ে আবেদন করা যাবে। সাইটে বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে নেওয়ার সুবিধা আছে। সেখানে শুরুতেই অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন: নতুন/রি-ইস্যু বাটন পাওয়া যাবে। এখানে ক্লিক করে সরাসরি আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।

এর আগে দেখে নিতে পারেন ই-পাসপোর্ট আবেদনের ৫টি (পাঁচ) ধাপ। একটি ধাপ হচ্ছে বর্তমান বসবাসরত জেলাতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, তা দেখা।

এর পরেরগুলো হচ্ছে অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম, পাসপোর্ট ফি পরিশোধ, ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ ও পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ। এর মধ্যে খেয়াল রাখতে হবে, কাগজপত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই, আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও আইরিশের ছবি গ্রহণ, যথাযথভাবে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ হয়েছে কি না এবং তালিকাভুক্তির পর সরবরাহ করা ডেলিভারি স্লিপ সংরক্ষণ।

পাসপোর্ট গ্রহণের সময় ডেলিভারির রসিদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া সর্বশেষ পুরোনো পাসপোর্ট (যদি থাকে) নিতে হবে। ই-পাসপোর্ট আবেদন অনলাইনে দাখিল করার সময়ে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যাবে।

পাসপোর্ট ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করা হবে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিসের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্ট করা যাবে। অনলাইন পেমেন্ট ছাড়াও ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট দেওয়া হয় এবং এখন পর্যন্ত চালু করা অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি হলো স্টারকার্ড, ভিসা, কিউ-ক্যাশ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিকাশ ও ডিবিবিএল নেক্সাস।

অনলাইনে পেমেন্ট করার জন্য আপনার ব্রাউজারের পপ-আপ ব্লকার অক্ষম করতে হবে।

আর একটু সহজ করে বলি

https://epassport.gov .bd
সাইটে ঢুকে আইডি খুলবেন।
মেইল আইডি দিবেন সঠিক ভাবে সেখানে লিংক যাবে activation এর জন্য।
Active হয়ে গেলে পরবর্তী ধাপ, এভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করবেন, শেষ ধাপে অনলাইন পেমেন্ট এর অপশন আসবে ( এটা একবার ই আসে, তাই সাবধানে করবেন) অনলাইন পেমেন্ট এর জন্য Bkash, Master Card, etc. সহজ। পাসপোর্ট এর পেজ ৪৮/৬৪ এবং মেয়াদকাল ৫/১০ বছর অনুযায়ী, এবং জরুরী বা স্বাভাবিক এর ভিত্তিতে টাকার পরিমান আসবে, সেই অনুযায়ী টাকা দিবেন, অথবা ব্যাংক এ ( Trust, One Bank),

যা যা লাগবে ঃ
১. অনলাইন আবেদনের PDF প্রিন্ট করে ( খেয়াল রাখবেন যেন বারকোড আসে)
২. NID ফটোকপি ( অরিজিনাল নিয়ে যেতে হবে) অরিজিনাল NID ছাড়া আবেদন পত্র জমা নিচ্ছেনা ১৮+ হলে)
৩. অফিস/ স্টুডেন্ট আইডি কপি ( অরিজিনাল নিয়ে যেতে হবে) পেশা পরিবর্তন করলে বা যোগ করলে)
৪. পেমেন্ট এর স্লিপ ( ব্যাংক পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে, অনলাইনে দিলে লাগবেনা)
৫. Appointment এর প্রিন্ট কপি ( মেইলে আসবে)
৬. পূর্বের পাসপোর্ট থেকে যদি কোন তথ্য পরিবর্তন করতে চান সমর্থন যোগ্য দলিলাদি। ( রিনিউ এর ক্ষেত্রে)

এসব নিয়ে, শিডিউল অনুযায়ী চলে যাবেন পাসপোর্ট অফিসে ( একটু আগেই যাবেন, ফাকা থাকে)
সরাসরি ৪০১ নম্বর রুমে। বাকিটা ওরাই করে দিবে।

দয়া করে তারাহুরা করবেন না, ধৈর্য্য ধরে সব করবেন, দালাল ধরার চিন্তাও করবেন না প্লিজ।
সবাই কাজের জন্যই যায়, সারিবদ্ধভাবে কাজ শেষ করবেন।
আর কিছু জিজ্ঞাসা থাকলে প্রশ্ন করতে পারেন৷
ধন্যবাদ বাংলাদেশ সরকার

অনলাইন চেক

ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ‘স্ট্যাটাস চেক’ করা যাবে। জন্মতারিখ ও আবেদনের ক্রমিক সংখ্যা দিয়ে সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে। আপনার অনলাইন পোর্টাল অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার সব আবেদনের অবস্থা দেখতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *